পৃথিবীর অদ্বিতীয় ৩০ পারা দরূদ গ্রন্থ মাজমুওয়ায়ে সালাওয়াতে রাসুল ﷺ!


৩০ পারা বিশিষ্ট কোন গ্রন্থের কথা বললে সর্বপ্রথম যে কিতাবটির নাম উঠে আসে তা হলো সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানী গ্রন্থ পবিত্র কোরআন মাজিদ যা পৃথিবীতে সর্বাধিক পঠিত। এরপর হলো সিহাহ সিত্তার অন্যতম হাদিস গ্রন্থ পবিত্র বোখারী শরীফ। এটিও ত্রিশপারা বিশিষ্ট অদ্বিতীয় হাদিস গ্রন্থ। এই দুই কিতাবের পর ৩০ পারার যে বিখ্যাত দরূদ গ্রন্থ রয়েছে, এর নাম "মুহায়্যিরুল উকূল ফী বায়ানি আওসাফি আকলিল উকূল আল্ মুসাম্মা বিমাজমুআতি সালাওয়াতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আ-লিহী ওয়াসাল্লাম"! সংক্ষেপে এটি 'মজমুওয়ায়ে সালাওয়াতে রাসুলﷺ' নামে প্রসিদ্ধ। কিন্তু ৩০ পারার এই বিখ্যাত দরূদ গ্রন্থ সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই অজানা। দরূদের এই অদ্বিতীয় গ্রন্থটি ইলমে লাদুনীর ধারক, গাউসে দাঁওরা, হযরত খাজা আব্দুর রহমান চৌহরভী (রহ.) কর্তৃক রচিত মহান আল্লাহ তা'আলার নিকট প্রার্থনা ও একই সাথে রাসুল ﷺ'র প্রশংসাগীত সম্বলিত উচ্চাঙ্গের সাহিত্যমানের আরবি ভাষার অনবদ্য দরূদ সমাহার। একজন অনারবির দ্বারা সৃষ্ট এই কিতাবের রচন ও বহুমাত্রিক আরবি শব্দ চয়ন বৈশিষ্ট্য এটিকে আরোবেশি রহস্যময় করে তুলেছে। এই কিতাব ৩০ পারায় সন্নিবেশিত, প্রতি পারা ৪৮ পৃষ্ঠা করে মোট ১৪৪০ পৃষ্ঠায় ৬৬৬৬ টি দরূদে পাক রয়েছে। এই কিতাব রচনার ব্যাপ্তিকাল ১২ বছর ৮ মাস ২০ দিন। এটির লেখক হযরত খাজা আব্দুর রহমান চৌহরভী (রহ.) ১৮৪৩ সনে বর্তমান পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তবর্তী অঞ্চল হরিপুরের চৌহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে সেখানেই ওফাত লাভ করেন। গাউসুল আজম হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রা.)'র ত্বরিকতের যোগ্য এই উত্তরসূরী একজন আজমি ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়া ১৮টি কিতাব রচনা করেন, এরমধ্যে আরবি ভাষায় রচিত মজমুওয়ায়ে সালাওয়াতে রাসুল ﷺ এক আশ্চর্যময় রচনা। কারণ পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি সমৃদ্ধশালী সাহিত্য রচনার অধিকারী আরবীরা। তারা বাগ্মিতায় এতোবেশি দক্ষ যে, আজমি তথা অনারবিদের মুক বলে থাকেন। সেখানে একজন উম্মী অনারবির দ্বারা বিশুদ্ধ আরবি ভাষার কাব্যিক ছন্দে সুবিশাল কিতাব রচনা করা সাধারণ কথা নয়। এ অনবদ্য দরুদ গ্রন্থের একটি কপি মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের এক আরব পাঠকের নজরে আসার পর, তিনি কিতাবটির মলাটে আরবিতে একটি মন্তব্য লিখে যান যে, ‘‘এটা কখনো কোন অনারবের রচনা হতে পারেনা’’। এই কিতাবের উপর ইসলামি বিশ্বে নানামহলে আলোচনা ও গবেষণা চলছে। বিশেষত, পাকিস্তানের বিখ্যাত লেখক ও গবেষক প্রফেসর ড. মাসউদ আহমদ এই কিতাবের উপর গবেষণাধর্মী ‘ইফতিতাহিয়্যা’ নামে একটি পুস্তক রচনা করেন। সেখানে তিনি এই কিতাব রচনার সংক্ষীপ্ত ইতিহাস, এর উচ্চাঙ্গিক ব্যাখ্যামূলক কাব্যিক শব্দ চয়ন এবং এর বিষয় বস্তুসহ বৈশিষ্টসমূহ তুলে ধরেন। হযরত খাজা আব্দুর রহমান চৌহরভী (র.) দীর্ঘ ১২ বছর ৮ মাস ২০ দিন সময়কাল ব্যাপী জুড়ে এটি রচনা করলেও এ বিষয় সম্পূর্ণ নিজের কাছে গোপন রেখেছিলেন। তাঁর ইন্তেকালের সময় ঘনিয়ে আসলে তিনি তাঁর একনিষ্ঠ মুরিদ ও প্রধান খলিফা হযরত আল্লামা হাফেজ ক্বারী সৈয়্যদ আহমদ শাহ সিরিকোটি (১৮৫৭-১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দ) রহ. যাঁকে তিনি ধর্ম প্রচারের জন্য বার্মার রেঙ্গুনে প্রেরণ করেছিলেন তাঁর নিকট চিঠি মারফতে এই সুবিশাল রচনা সম্পর্কে অবহিত করে নির্দেশ করেন যে, এই কিতাব যেন ছাপানোর ব্যবস্থা করেন আর সাথে এর বৈশিষ্ট সম্পর্কেও ধারণা দেন। হযরত সৈয়্যদ আহমদ শাহ সিরিকোটি (র.) এটি সম্পর্কে জানার পর বিস্মিত হয়ে বলেন, ‘হাম তো তাজ্জব হো গিয়া, হাম তো হামারে আন্দর না থা, আয়ছে আজিমুশশান হাস্তি হামকো নসীব হুয়া, লেকিন আপনে আপকো ছুপায়া, উম্মী থে, লেকিন তিস পারা দরূদ শরিফ লিখা, জো দুনিয়া মে বে মেছাল হ্যায়।’ অর্থাৎ আমি তো আশ্চার্যান্বিত হয়ে গেলাম। আমার মধ্যে আমি ছিলাম না। এমন মহা-মর্যাদাবান ব্যক্তি (মুর্শিদ) আমাদের ভাগ্যে জুটেছে। কিন্তু তিনি নিজেই নিজেকে গোপন করেছেন। ‘উম্মী’ ছিলেন। (অর্থাৎ যাহেরীভাবে কোন মাদরাসা কিংবা উস্তাদের নিকট পড়েননি) অথচ ত্রিশপারা সম্বলিত দুরূদ শরিফ গ্রন্থ প্রণয়ন করেছেন, গোটা দুনিয়ায় যার কোন উপমা নেই। এতো বড় কিতাব প্রণয়ন করার প্রসঙ্গে হযরত খাজা চৌহরভী (র.)কে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি উত্তর দেন “আমি শুধু কাগজের উপর কলম বসিয়ে রাখতাম, আর সরকারে দো আলম ﷺ'র নূরানী চেহারা মুবারকের প্রতি মুতাওয়াজ্জুহ হয়ে বসতাম। এদিকে আপন গতিতে চলতে শুরু করে আমার কলম। পরবর্তীতে সেটাই মজমুয়ায়ে সালাওয়াতির রাসুল (ﷺ) তথা ত্রিশ পারা দরুদ শরীফ এর গ্রন্থে পরিণত হয়ে গেল।" এটির মাধ্যমে একটা বিষয় স্পষ্ট হয় যে, তিনি ইলমে আতায়ি তথা আল্লাহ ও রাসুল ﷺ'র কাছ থেকে সরাসরি প্রাপ্ত জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। এই মহান ব্যক্তিত্ব সিহাহ সিত্তার কিতাবেরও প্রগাঢ় জ্ঞান রাখতেন। সিহাহ সিত্তার হাদিস সমূহ কার কাছ থেকে শিখেছেন, এ প্রসঙ্গেও জানতে চাওয়া হলে প্রদত্তরে তিনি বলেছিলেন, "হুজুর পাক ﷺ থেকে"। 'মজমুওয়ায়ে সালাওয়াতে রাসুল ﷺ'র ভূমিকায় হযরত সৈয়্যদ আহমদ শাহ সিরিকোটি (র.) এসব কথা উল্ল্যেখ করেন। ১ম সংস্করণঃ হযরত সিরিকোটি (র.) স্বীয় পীরের নির্দেশ পাওয়ার পর এটি প্রকাশের জন্য উদ্যোগ নেন। সে সময়ে এটি ছাপানোর জন্য চার হাজার টাকার বাজেট নির্ধারণ করে সর্বশেষ ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে রেঙ্গুনের ধনাট্য ব্যক্তি মরহুম শেঠ আহমদের অর্থায়ন এবং কিছু বাঙালি রেঙ্গুন প্রবাসীদের সহযোগিতায় রেঙ্গুন থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। এর ভূমিকা লিখেন আল্লামা ইসমাতুল্লাহ্ সিরিকোটি (র.) এবং ভূমিকায় বর্ধিত সংযোজনা আরোপ করেন হযরত সৈয়্যদ আহমদ শাহ সিরিকোটি (র.)। ২য় সংস্করণঃ ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ১৩৭২ হিজরিতে আবারো হযরত আল্লামা সৈয়্যদ আহমদ শাহ সিরিকোটি (র.)’র উদ্যোগে মাওলানা আমীর শাহ্ (র.)’র তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম থেকে দ্বিতীয়বার প্রকাশিত হয়। উল্ল্যেখ্য কুতুবুল আউলিয়া হযরত সৈয়্যদ আহমদ শাহ সিরিকোটি (র.)'র কাছে রেঙ্গুন প্রবাসী অনেক বাঙালি মুসলমান তাঁর শিষ্যত্ব তথা মুরিদ হোন। এর মধ্যে বাংলার প্রথম দৈনিক ও একুশে কবিতা প্রচারের প্রথম পত্রিকা 'দৈনিক আজাদী'র প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়র আব্দুল খালেক (র.) অন্যতম। ইঞ্জিনিয়র সাহেব, মাস্টার আবদুল জলিলসহ চট্টগ্রাম নিবাসী তাঁর অসংখ্য মুরীদের আবেদন-নিবেদনের প্রেক্ষিতে ১৯৩৫-৩৬ খ্রিস্টাব্দের দিকে তিনি রেঙ্গুন থেকে পাকিস্তান যাওয়ার পথে চট্টগ্রামে কিছু দিনের জন্য যাত্রা বিরতি করতেন। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম-ঢাকাসহ নিয়মিত আসা-যাওয়ার মাধ্যমে তৎকালীন পূর্ব বাংলায় ত্বরিকতের কাজ ও ধর্ম প্রচারের মাধ্যমে লক্ষাধিক ভক্ত তার মুরিদ হোন। তিনি চট্টগ্রামে ১৯৫৪ ইংরেজিতে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া নামে একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন যেটি বর্তমানে এশিয়াখ্যাত এবং বাংলাদেশের অন্যতম স্বর্ণপদক প্রাপ্ত শীর্ষ আলিয়া মাদরাসা। ১৯২৫ সালে রেঙ্গুনে তাঁর প্রতিষ্ঠিত দ্বীনি সংস্থা আনজুমান-এ শুরায়ে রহমানিয়া কে বাংলাদেশে স্থানান্তরিত করে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া নামে পরিবর্ধিত করেন। বর্তমানে এই সংস্থার মাধ্যমে দুই শতাধিক ধর্মীয় খানকা-মসজিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। ৩য় সংস্করণঃ হযরত আল্লামা সৈয়্যদ আহমদ শাহ সিরিকোটি (র.) ওফাতের পর তাঁর দরবেশপুত্র ও খলিফা আল্লামা হাফেজ ক্বারী সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (র.) পিতার দ্বীনি কার্যক্রমের হাল ধরেন। ওনার নির্দেশনায় আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া, চট্টগ্রাম থেকে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ১৪০২ হিজরিতে তৃতীয় সংস্করণে পাঁচ হাজার কপি ছাপানো হয়। ৪র্থ সংস্করণঃ পরবর্তীতে দরবারে আলিয়া সিরিকোট শরীফের বর্তমান সাজ্জাদানশীন আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ ও আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ মাদ্দাজিল্লুহুমাল আলী’র পৃষ্ঠপোষকতায় এর অনুবাদসহ চৌহর শরীফ পাকিস্তান হতে অফসেট কাগজে এর নবতর সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ১৪১৬ হিজরিতে। এটার উর্দূ অনুবাদ করেন প্রখ্যাত উর্দূ সাহিত্যিক আল্লামা আবুল হাসানাত মুহাম্মদ আশরাফ সিয়ালভী। এ মহান গ্রন্থ ছাপার সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন আবুধাবী প্রবাসী, হাটহাজারী চট্টগ্রাম নিবাসী আলহাজ্ব আব্দুল জব্বার প্রকাশ ইউনুছ কোম্পানী। বাংলা ও অন্যান্য ভাষায় সংস্করণঃ বর্তমানে আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট কর্তৃক আনজুমান রিসার্চ সেন্টারের তত্ত্বাবধানে বাংলা উচ্চারণসহ অনুবাদ চতুর্দশ পারা পর্যন্ত সম্পূর্ণ হয়েছে। বাকিগুলোও ধারাবাহিক অনুবাদের কাজ চলছে। আলাদা আলাদা অনূদিত পারা সমূহ চট্টগ্রামের জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া, দিদার মার্কেট আনজুমান হেড অফিস, চট্টগ্রাম আলমগীর খানকা, আন্দরকিল্লা এবং ঢাকা মুহাম্মদপুর কাদেরিয়া তৈয়্যবিয়া আলিয়া মাদরাসায় পাওয়া যাচ্ছে। তাছাড়া ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত বিশেষ বিশেষ পারা অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। পাঠকদের জ্ঞাতার্থে হযরত খাজা আব্দুর রহমান চৌহরভী (রঃ) রচিত মজমুয়ায়ে সালাওয়াতে রসুল ﷺ এর অন্তর্ভূক্ত ৬৬৬৬ টি দরূদ হতে উচ্চারণ ও অনুবাদসহ একটি দরূদ শরীফ নিম্মে প্রদত্ত হলো, ﺍَﻟﻠّٰﮩُﻢَّ ﺻَﻞِّ ﻋَﻠٰﯽ ﺳَﯿِّﺪِﻧَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ ﺧَﯿْﺮِ ﻣَﻦْ ﺣَﺼَﻞ ﻟَﮧٗ ﺟَﺰِﯾْﻞُ ﺍﻟﺜَّﻮَﺍﺏِ ﻣِﻦْ ﺭَّﺏِ ﺍﻟْﺎَﺭْﺑَﺎﺏِ উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা সল্লি ’আলা- সায়্যিদিনা- মুহাম্মাদিন্ খায়রি মান্ হাসালা লাহূ জাযী-লুস্ সাওয়া-বি মির রব্বিল আরবা-ব। অর্থ : হে আল্লাহ! দুরূদ প্রেরণ করো আমাদের আক্বা হযরত মুহাম্মদ মোস্তফার উপর, যিনি সর্বোত্তম ওইসব সম্মানিত লোকদের থেকে, যাঁরা লাভ করেছেন মহা প্রতিদান সর্বোত্তম প্রতিপালকের নিকট থেকে। [মজমুআ-এ সালাওয়াতে রসুল, ৪র্থ পারা, পৃ. ৩] খণ্ড বিভাজনে ৩০ পারার ৩০ টি শিরোনামঃ দরূদের এই অদ্বিতীয় এই বিশাল কিতাবের ৩০ খন্ডে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ এর ত্রিশটি বিষয়ে শিরোনাম করে প্রশংসাগীতি রচনা করেন। যা আলাদাভাবে ত্রিশটি বিষয়ে গবেষণার ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে। যেমনঃ প্রিয় নবী ﷺ এর- ১. নূর ও তাঁর প্রকাশ, ২. তাঁর নূরানী সত্ত্বা ও বরকতময় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ, ৪. তাঁর পোশাক-পরিচ্ছদের বৈশিষ্ট্য, ৫. তাঁর হাসাব-নসব তথা পূর্বপুরুষ, বংশপরম্পরা, ৬. তাঁর মান-মর্যাদা ও আভিজাত্য, ৭.তাঁর যাতী ও সেফাতী নামসমূহ, ৮.তাঁর নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব, ৯. তাঁর প্রশংসা ও মহিমা গান, ১০. তাঁর মি‘রাজ ও ঊর্ধ্বলোক ভ্রমণ, ১১. তাঁর তাসবীহ ও তাহলীল, ১২. তাঁর ধৈর্য ও সংযম, ১৩. তাঁর দু‘আ ও প্রার্থনা, ১৪. তাঁর বাণী ও বচন, ১৫. তাঁর নুবুয়ত ও রিসালাত, ১৬. তাঁর মহত্ত্ব ও সম্মান, ১৭. তাঁর সুপারিশ এবং স্রষ্টা ও সৃষ্টির যোগসূত্রতা, ১৮. তাঁর অবস্থান ও অবস্থানগত প্রভাব, ১৯. তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণাদি ও সুসংবাদসমূহ, ২০. তাঁর প্রেম ও প্রেমাষ্পদ, ২১. তাঁর প্রজ্ঞা ও অদৃশ্যজ্ঞান, ২২. তাঁর মু‘জিযা ও অলৌকিকত্ব, ২৩. তাঁর দাওয়াত ও আহ্বান, ২৪. তাঁর আদেশ-নিষেধ, ২৫. শুহুদ ও মাশহূদ (গুপ্তে-ব্যক্তে তাঁর উপস্থিতি), ২৬. তাঁর অনুপম চরিত্র, ২৭. তাঁর নৈকট্য ও আপনজন, ২৮. তাঁর সম্পৃক্ততা ও সাহচর্য, ২৯. তাঁর লিওয়ায়ে হামদ ও মকামে মাহমূদ, ৩০. সৃষ্টিতে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও তাঁর উম্মতের শ্রেষ্ঠত্ব। দরূদে পাকের ফজিলত ও এই দরূদ গ্রন্থের অলৌকিকত্বঃ দরূদে পাক তথা প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা ﷺ ও তাঁর আহলে পরিবারের উপর সালাম, প্রশংসাগীত করা মহান আল্লাহর নির্দেশিত একটি উত্তম ইবাদত এবং যা স্বয়ং আল্লাহ তা'আলাও করে থাকেন। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হচ্ছে,    "নিশ্চয়   আল্লাহ্‌ ও তার ফিরিশ্‌তাগণ দরূদ প্রেরণ করেন ওই অদৃশ্যবক্তা  (নবীর) প্রতি, হে  ঈমানদারগণ!   তোমরাও তার প্রতি দরূদ ও খুব সালাম প্রেরণ করো।" (সূরাঃ আহযাব-৫৬) তাছাড়া দরুদ পাঠ করার মধ্যে অসংখ্য ফজিলত রয়েছে আর দোয়া কবুল হওয়ার পূর্বশর্তও দরুদ পাঠ করা। ত্রিশ পারার অদ্বিতীয় মাজওয়ায়ে সালাওয়াতে রাসুল ﷺ'র একটি বিশেষ অলৌকিকত্ব হলো মানুষের কোন সমস্যা যখন জাগতিক ক্ষমতায় সমাধানের অযোগ্য হয়ে যায়, তখন এর খতম আদায়ের মাধ্যমে মহান আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করা হলে অনায়াসে সমাধান মিলে। যার অহরহ প্রমাণ খতম আদায়কারীরা অনূভব করেছেন। সংক্ষিপ্ত পরিসরে মজমুওয়ায়ে সালাওয়াতে রাসুল ﷺ'র মত সুবিনস্ত রহস্যময় বিশাল কিতাব সম্পর্কীয় বর্ণনা দেওয়া কখনো সম্ভব নয়। বিভিন্ন আর্টিকেল ও পুস্তক হতে সম্মুখ ধারণার অল্পীকৃত আলোকপাত মাত্র। মহান আল্লাহ তা'আলা যেন এই কিতাবের রচয়িতাকে উচ্চতর মক্বাম দান করেন এবং তাঁর ফয়ুজাত দানে আমাদের ধন্য করেন। আমিন বেহুরমাতি সৈয়্যদিল মুরসালিন। ★তথ্য সূত্রঃ *শাজরা শরীফ, দরবারে আলিয়া কাদেরিয়া সিরিকোট শরীফ (বাংলা), *বেলায়তের নক্ষত্র খাজা আব্দুর রহমান চৌহরভী, কৃত আলহাজ্ব মুহাম্মদ সিরাজুল হক, *তাফাজ্জল হক, সংপ্তি রিপোর্ট, শূরা-এ রহমানিয়া, রেঙ্গুন, ১৯৩৫, পৃ.৪-৫ ('ইফতিতাহিয়্যা' কৃত প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাসঊদ আহমদ,পাকিস্তান,) *শাহেনশাহ্ এ সিরিকোট (রহঃ) বিশ্বব্যাপি সুন্নিয়তের জাগরণে তাঁর অবদান, শীর্ষক সেমিনার'১৮ এর মূল প্রবন্ধ। প্রবন্ধকার, আলহাজ্ব এডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার, *সুন্নীয়তের পঞ্চরত্ন, কৃতঃ মাওলানা বদিউল আলম রেজভী, *মাজমুয়ায়ে সালাওয়াতে রসূলের ভূমিকা কৃতঃ আল্লামা ইসমতুল্লাহ সিরিকোটি/ www.anjumantrust.org/mazmua-e-salawat-e-rasul/, *www.deenislam.co.uk/dua/majmuah-salawat.htm. ණমুহাম্মদ তাহের হোসাইন #শিক্ষার্থীঃ জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া।

www.anjumantrust.org/mazmua-e-salawat-e-rasul/